হযরত আছিয়া (আঃ)- নবম অংশ

 প্রথম অংশ পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

প্রহরীরা আগুনের এক বিশাল কুণ্ড তৈয়ার করল। এক আল্লাহকে প্রভু মেনে ফেরাউনকে কষ্ট দেয়ার পরিণতিতে আগুণে পুড়তে হচ্ছে এক নারীকে। শুধু তাই নয়। কোলের শিশুটির পর্যন্ত রেহাই নেই। মায়ের চোখের সামনে জ্বলে ভস্মীভূত হচ্ছে নিষ্পাপ বাচ্ছাটা। সে যেন মায়ের দিকে ফিরে অব্যক্ত ভাষায় বলছিল—আম্মিজান! আপনি সঠিক পথে আছেন। বিচলিত হওয়ার কোন কারণ নেই। হৃদয়ে ঝড়তোলা নির্মম এ দৃশ্য দেখে অশ্রুতে চোখ মুখ একাকার করে ফেললেন আছিয়া। কান্নাভরা কণ্ঠে গলা উঁচিয়ে তিনি বললেন, ফেরাউন তোর নিস্তার নেই। আমার প্রভুর মর্মন্তদ শাস্তি তোকে ভোগ করতে হবে। তাঁর দিকে মুখ ফিরিয়ে ফেরাউন বলল—আছিয়া বদলে গেছে। পাগল হয়ে গেছে। শয়তান পেয়ে বসেছে ওকে। আছিয়া জবাব দিলেন কিছুই হয়নি আমার। আমাকে শয়তানেও পায়নি। আমি পাগল নই। আমার জ্ঞান বুদ্ধি সব ঠিক আছে। আমি এক আল্লাহর উপর ঈমান এনেছি। যিনি আমার তোমার সকলের প্রভু। গোটা সৃষ্টি জগতের পালনকর্তা তিনি। একথা শুনে ফেরাউন আর নিজেকে নিয়ন্ত্রোন করতে পারল না। ঐ পরিচারিকার মত আছিয়াকেও কথিন শাস্তি দেয়ার হুকুম দিল। তবে এর আগে তাঁর মাকে বিষয়টা অবগত করল সে। যেন সে এসে মেয়ের কর্মকাণ্ড স্বচক্ষে দেখে যায়।

আছিয়ার মা এসে সব কিছু ভাল্ভাবে জেনে শুনে আছিয়ার কাছে গিয়ে তাঁকে জিজ্ঞেস করল লোকেরা তোমার ব্যাপারে যে আবোল—তাবোল কথা বলছে, সবই কি ঠিক? তুমি কি সত্যিই মূসার প্রতি ঈমান এনেছ? এক বুক আত্মতৃপ্তি নিয়ে আছিয়া বললেন—সব কথাই ঠিক। মূসা সঠিক পথে আছে। যে দ্বীন মূসা নিয়ে এসেছে সেটাই প্রকৃত সত্য। তাঁর মা তাঁকে বুঝিয়ে সুঝিয়ে ফেরাউনের কথা মেনে নিতে প্রাণান্তকর চেষ্টা করল। কিন্তু কোনই ফায়দা হল না। ফেরাউন এবার তাঁর শাস্তির চূড়ান্ত ফয়সালা জানিয়ে দিল। প্রহরীরা তাঁকে চাবুক দিয়ে আঘাতের পর আঘাত করতে লাগল। ফেরাউন এ তাঁর সভাসদ সকলেই এ নিদারুণ দৃশ্য উপভোগ করছিল। যখনই আছিয়া ব্যথায় ককিয়ে উঠতেন, ফেরাউন আরো বেশি করে প্রচন্ডভাবে প্রহার করার হুকুম দিত। যেন ফেরাউনকে তিনি প্রভু বলে স্বীকার করেন। কিন্তু ঈমানের অটল পাহাড় আছিয়া সমানে মার খাচ্ছেন আর আল্লাহ তাআলার দরবারে কাতরকণ্ঠে প্রার্থনা করছেন—

وَضَرَبَ اللَّهُ مَثَلًا لِّلَّذِينَ آمَنُوا اِمْرَأَةَ فِرْعَوْنَ إِذْ قَالَتْ رَبِّ ابْنِ لِي عِندَكَ بَيْتًا فِي الْجَنَّةِ وَنَجِّنِي مِن فِرْعَوْنَ وَعَمَلِهِ وَنَجِّنِي مِنَ الْقَوْمِ الظَّالِمِينَ

হে আমার পালনকর্তা! আপনার সন্নিকটে জান্নাতে আমার জন্যে একটি গৃহ নির্মাণ করুন, আমাকে ফেরাউন ও তার দুস্কর্ম থেকে উদ্ধার করুন এবং আমাকে যালেম সম্প্রদায় থেকে মুক্তি দিন।–সুরা তাহরীম, আয়াত ১১।

আল্লাহ পাক তাঁর দুআ কবুল করলেন। সিদ্দিক ও শহীদদের অনন্য মর্যাদায় অভিষিক্ত করলেন তাঁকে। জান্নাতের অকল্পনীয় সব নেয়ামত দান করলেন। আর ফেরাউন! বিশাল সৈন্যবহরসহ নীল দরিয়ায় ডুবে মরল। পৃথিবীবাসীর কাছে এখন সে শুধু এক মর্মান্তিক ইতিহাস।

লিখেছেনঃ শাইখ আব্দুল মুনঈম হাশেমী

অনুবাদঃ মাওলানা হাসান শরীফ

আল কুরআনে নারীর কাহিনী বই থেকে সংগ্রহ করা।

প্রথম অংশ পড়তে এখানে ক্লিক করুন

You may also like...

Skip to toolbar