হযরত আছিয়া (আঃ)- পঞ্চম অংশ

ষষ্ঠ অংশ পড়তে এখানে ক্লিক করুন

আমার মুখের জড়তা দূর করে দিন যেন মাধুর্যপূর্ণ ভাষায় হৃদয়গ্রাহী করে আমি তাদের সত্যের পথে ডাকতে পারি। এবং আমার দাওয়াতের মুগ্ধ হয়ে এর প্রতি তারা উৎসাহী হয়।

আর আমার পরিবারের একজনকে আমার সহযোগি বানিয়ে দিন, যে আমার মত একই চিন্তার অনুগামী হয়ে আমার সহযোগিতা করবে।

আমার ভাই হারুনের পৃষ্ঠপোষকতায় আমার শক্তি সুদৃঢ় করুন এবং তাঁকে আম,আর কাজে সহযোগী বানান।

আছিয়া এসবের কিছুই জানতেন না। ফেরাউনের দুর্দম শক্তির মোকাবেলায় মূসা (আঃ) কী হাতিয়ার ব্যবহার করবেন, কার থেকে সাহায্য নিবেন তাও তাঁর অজ্ঞাত ছিল। তিনি মূসা (আঃ) ও হারুন (আঃ) এর আগমন সংবাদ শুনে ভাবনায় পড়ে গেলেন যে, ফেরাউনের কাছে তারা বলবেটা কী? আর কিভাবেই বা বলবে? কাছাকাছি থাকার কারণে স্বামীর নিষ্ঠুর স্বভাব সম্পর্কে তিনি খুন ভালভাবেই ওয়াকিফহাল। এই ভাবনা ও দুর্ভাবনায় তিনি ডুবে ছিলেন হঠাৎ কানে আওয়াজ এল, মূসা (আঃ) রাজপ্রাসাদে প্রবেশ করছেন। অল্পক্ষণ পরেই তিনি সবার সামনে এক মহাসত্যের পয়গাম তুলে ধরবেন। তাদের কথাবার্তা শোনার জন্য আছিয়া দরবারের একপার্শ্বে বেলকনিতে আসন গ্রহণ করলেন। যাতে গোটা দরবারীদের অবস্থান সহজেই তাঁর নজরে আসে।

আল্লাহর হুকুম বাস্তবায়নের জন্য মুসা (আঃ) অত্যন্ত অনাড়ম্বরভাবে রাজপ্রাসাদে প্রবেশ করলেন। সঙ্গে সহোদর ভাই হারুন (আঃ) ও আছেন। তাদের প্রতি আল্লাহর আদেশ ছিল। তোমরা ফেরাউনের কাছে গিয়ে বলবে ‘আমরা তোমার প্রভুর প্রেরিত পয়গাম্বর। তোমার অত্যাচার ও অমানুষিক নির্যাতনের হাত থেকে বনী ইসরাঈলকে মুক্ত করার জন্যই আমরা এসেছি। পাশেই গ্যালারি থেকে আছিয়া মনোযোগ সহকারে দরবারের দিকে তাকিয়ে ছিলেন। ভাবগম্ভীর কণ্ঠে মূসা (আঃ) ফেরাউনকে বললেন—আমরা আল্লাহ পাকের প্রেরিত পয়গাম্বর।

فَأْتِيَاهُ فَقُولَا إِنَّا رَسُولَا رَبِّكَ فَأَرْسِلْ مَعَنَا بَنِي إِسْرَائِيلَ وَلَا تُعَذِّبْهُمْ قَدْ جِئْنَاكَ بِآيَةٍ مِّن رَّبِّكَ وَالسَّلَامُ عَلَى مَنِ اتَّبَعَ الْهُدَى

বনী ইসরাঈলকে আমাদের সাথে যেতে দাও। তাদ্রেকে অযথা নির্যাতন করো না।–সুরা ত্বহা, আয়াত ৪৭।

ফেরাউন কথাটিকে কোনই গুরুত্ব দিল না। উল্টো সে গোস্বা ভরে বলল মূসা! আজ তুমি আমাকে এ কথা বলছ? আমি কি তোমাকে লালন করিনি? বছুরের পর বছর আমার ঘরে খেয়ে পড়েই তুমি বড় হয়েছ। ব্যালকনি থেকে আছিয়া অত্যন্ত আআগ্রহভরে ধ্যানসহকারে মূসা (আঃ) এর কোথা শুনছিলেন। তিনি দেখলেন ফেরাউন ক্রোধান্বিত হয়ে উঠছে। এটা চরমে উঠতে হয়তো খুব বেশি সময় লাগবে না। কিন্তু মূসা (আঃ) নির্বিকার ভঙ্গিতে মুহূর্তেই এক সাংঘাতিক বাক্য নির্মাণ করলেন আরে! বাল্যকালে আমার লালন—পালনের অনুগ্রহের কথা বলে আমাকে তুমি খোটা দিচ্ছ? শুনে রাখ! এটাও ছিল তোমার বর্বরতা আর পাষণ্ডতার পরণতি। যদি তোমার পাশবিকতা সীমা ছাড়িয়ে না যেত তাহলে নিজ ঘরেই আমি সুখে শান্ততে প্রতিপালিত হতাম, এখানে আসার পরও তো আমার জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছিল। আল্লাহ পাকের সীমাহীন মেহেরবাণীই আমাকে বাঁচিয়ে রেখেছে। অন্যথায় তোমার অভিপ্রায় তো ছিল অন্য কিছু। তোমার প্প্রাসাদে আমার প্রতিপালিত হওয়াও কি বনী ইসরাঈলের উপর অমানবিক অত্যাচারের প্রমাণ বহন করে না?

এ কথা শুনে ফেরাউন আরো বেপরোয়া হয়ে উঠে বলতে লাগল—ইতোপূর্বে তুমি আরো অনেক কিছু করেছ। আমাদের নিরপরাধ একজন লোককে হত্যা পর্যন্ত করেছে। আর এখন আমাদের অবদানকে অস্বীকার করছ? মূশা (আঃ) বললেন—ঐ কাজটি তো একান্তই আমার অনিচ্ছায় সংঘটিত হয়েছে। পরে তোমাদের ভয়ে আমি দেশ ছাড়াও হয়েছিলাম। এখন তো রাব্বুল আলামীনের রহমত ও নেয়ামতে আমি অভিষিক্ত। জ্ঞান ও প্রজ্ঞার মহাসম্পদ তিনি আমাকে দান করেছেন। আমাকে তিনি তাঁর পয়গাম্বর বানিয়েছেন। অল্প সময় গম্ভীর থেকে কিছুটা অবজ্ঞার সুরে ফেরাউন বলল—তোমাদের রাব্বুল আলামীন আবার কে? জবাবে মূসা (আঃ) বললেন—যদি তুমি নিজের চারপাশের সৃষ্টিজগত নিয়ে একটু গভীর চিন্তা কর, পৃথিবীর গতি প্রকৃতি অনুসন্ধিৎসু দৃষ্টিতে পর্যবেক্ষণ কর, এমনকি নিজের জীবন ও এর সুশৃঙ্খল প্রবাহ নিয়ে, ভোগ বিলাসের সমূহ সম্ভাব নিয়ে সুষ্ঠুভাবে একাগ্রচিত্তে একটু ধ্যানমগ্ন হও তাহলে তুমি নিজেই উপলদ্ধি করতে পারবে রাব্বুল আলামীন হচ্ছেন আসমান—জমিন ও এতদুভয়ের মাঝে যা কিছু আছে সবার সৃষ্টিকর্তা ও প্রতিপালক।

ষষ্ঠ অংশ পড়তে এখানে ক্লিক করুন

You may also like...

Skip to toolbar