হযরত ঈসা (আঃ)- এর পৃথিবীতে অবতরন সম্বন্ধে আকিদা

হযরত মাহদীর সময় দাজ্জালের আবির্ভাব হবে। সে সময় হযরত ঈসা (আঃ) আকাশ থেকে অবতরণ করবেন এবং তাঁরই হাতে দাজ্জাল নিহত হবে। (হযরত ঈসা (আঃ) বর্তমানে দ্বিতীয় আসমানে আছেন।)

অভ্যুথানের পর দাজ্জাল সর্বমোট ৪০ দিন দুনিয়াতে থাকবে। দাজ্জালের বাহিনি বায়তুল মুকাদ্দাসের চতুর্দিকে ঘিরে ফেলবে এবং মুসলমানগন অবরুদ্ধ হয়ে পড়বে। এ সময়ে একদিন ফজরের নামাযের ইকামত হওয়ার পর হযরত ঈসা (আঃ) আকাশ থেকে ফেরেশতাদের উপর ভর করে অবতরন করবেন। বায়তুল মুকাদ্দাসের পূর্ব দিকের মিনারের নিকট তিনি অবতরন করবেন এবং হযরত মাহদী উক্ত নামাযের ইমামতি করবেন (এক বর্ণনা অনুযায়ী দামেষ্কের এক মসজিদের পূর্ব দিকের শুভ্র মিনারায় তিনি অবতরন করবেন। অধিকাংশ আলেমের মতে তাঁর অবতরন হবে বায়তুল মুকাদ্দাসে। এরূপ বর্ণনাও হাদীসে রয়েছে। হতে পারে তাঁর অবতরণের পূর্বে বায়তুল মুকাদ্দেসেও শুভু মিনার তৈরী হবে। আবার বায়তুল মুকাদ্দাস এলাকাকে ভৌগোলিকভাবে দামেষ্কের অন্তর্ভূক্ত বলা যায়। তাহলে দুই বর্ণনায় কোনো বৈপরিত থাকে না)।

নামাযের পর হযরত ঈসা (আঃ) হাতে ছোট একটা বর্শা নিয়ে বের হবেন। তাঁকে দেখেই দাজ্জাল পলায়ন করতে আরম্ভ করবে। হযরত ঈসা (আঃ) তার পশ্চাব্দাবন করবেন এবং লুদ নামক স্থানের প্রবেশদ্বারে গিয়ে তাকে নাগালে পেয়ে বর্শার আঘাতে তাকে মেরে ফেলবেন।

মুসলমানদের আকীদা অনুযায়ী হযরত ঈসা (আঃ) কে আল্লাহ তাআলা সশরীরে আসমানে উঠিয়ে নেন, তিনি স্বাভাবিক মৃত্যুবরণও করেননি কিংবা ইয়াহুদীরা তাঁকে শূলীতে চড়িয়ে হত্যাও করতে পারেনি। তিনি আকাশে জীবিত আছেন। তিনি উপরোক্ত বর্ণনা অনুযায়ী দাজ্জালের আবির্ভাবের পর দুনিয়াতে আগমন করবেন এবং ৪০ বতসর রাজত্ব পরিচালনা করবেন। তারপর ইন্তেকাল করবেন। তাঁকে আমাদের নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পাশেই দাফন করা হবে। হযরত ঈসা (আঃ) নবী হিসাবে আগমন করবেন না বরং আমাদের নবী হযরত নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয় সাল্লাম- এর উম্মত হিসাবে আগমন করবেন এবং এই শরীয়াত অনুযায়ী তিনি জীবন যাপন ও খেলাফত পরিচালনা করবেন।

সূত্রঃ আহকামে যিন্দেগী (হযরত মাওলানা মুহাম্ময়াদ হেমায়েত উদ্দীন)। পৃষ্ঠা নংঃ ৭৭

You may also like...

Skip to toolbar