হযরত ওমর ফারুক (রাযিঃ) এর জীবনের শেষ কয়েক দিনের ঘটনা

হযরত ওমর ফারুক (রাযিঃ) এর জীবনের শেষ কয়েক দিন বেহুশের মত কেটেছে। উনি ২য় খলীফা থাকা কালে একদিন মসজিদে নামাজ পড়াচ্ছিলেন। ঠিক ঐ মুহূর্তে এক বেদুঈন তার পিছন দিক দিয়ে বর্শা দ্বারা হযরত ওমর (রাযিঃ) এর শরীরে আঘাত করে। বর্শাটিতে বিষ লাগানো ছিল। যখন সেই বিষ লাগানো বর্শা দ্বারা হযরত ওমর (রাযিঃ) আঘাত প্রাপ্ত হন ঠিক তার পিছনে থাকা ৩ জন সাহাবি সেই বর্শা ছুটাতে গিয়ে বিষের যন্ত্রণায় সাথে সাথে শহীদ হন এবং আর ৪ জন সাহাবি এর ২-৩ দিনের মধ্যে শহীদ হন (মোট ৭ জন সাহাবি শহীদ হন)। বিষের যন্ত্রণায় হযরত ওমর (রাযিঃ) বেহুশের অবস্থা ছিল। বেশির ভাগ সময়ই ওমর (রাযিঃ) এর ছেলে যাকে ২য় ওমর বলা হয় তার কোলে ওমর (রাযিঃ) এর মাথা থাকতো। মাঝে মাঝে জ্ঞান আসতো, আবার বেহুশ হয়ে যেতেন। যখন ওমর (রাযিঃ) জ্ঞান ফিরে আসতো তখন ছেলেকে বলতেন মাটিতে নামিয়ে দিতে। তখন ওমর (রাযিঃ) নিজের গাল মাটিতে ঘষতেন আর বলতেন আল্লাহ্‌ যদি ওমরকে মাফ না করে তবে তো আমি বরবাদ হয়ে যাব।

বিঃদ্রঃ ঐ বেদুঈন সম্ভবত ইরানের ছিল এবং যে বর্শা দ্বারা হযরত ওমর (রাযিঃ) এর শরীরে আঘাত করা হয় তা খুবই বিষাক্ত বিষের মধ্যে ৭ দিন ডুবিয়ে রাখা হয়েছিল।

ওমর ফারুক (রাযিঃ) ইসলামের ২য় খলীফা। ২৯ নম্বরে ইসলাম গ্রহণ করেও যার অবস্থান ২য়, রসূল (সাঃ) যার প্রসংগে বলেছেন আমার পরে যদি নবী আসতো তবে সে হত ওমর। সেই ওমর ফারুক (রাযিঃ) যদি নিজের গাল মাটিতে ঘষতেন আর বলতেন আল্লাহ্‌ যদি ওমরকে মাফ না করে তবে তো আমি বরবাদ হয়ে যাব, তবে আল্লাহ্‌ আমার কি অবস্থা???

আল্লাহ্‌ আমাদের সকলকে ওমর (রাযিঃ) এর সিফতগুলো দান করেন। আমাদের মাফ করে দেন।…।
।।সংগৃহীত।।

You may also like...

Skip to toolbar