হযরত খিজিরের (আঃ) তাকওয়া

হযরত আবু উমামা (রাদ্বিআল্লাহুতা’লা ’আনহু) বর্ণনা করেন যে, আল্লাহ’র রাসুল (সল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ফরমান: আমি কি তোমাদের খিজিরের ঘটনা বয়ান করবো না? তাঁরা (সাহাবায়ে কেরাম) বললেন: আলবাত ইয়া রাসুলাল্লাহ! তিনি ফরমালেন: একবার তিনি বনি ইসরাঈলের একটি বাজারে পায়চারী করছিলেন। এক মুকাতিব (যে দাস তার ক্রয়মূল্য মালিককে শোধ করলে মুক্তি পাবে – এ শর্তে আবদ্ধ) তাঁকে দেখে বললো: আমায় কিছু দান করুন; আল্লাহ্ আপনাকে বরকত দেবেন।

খিজির বললেন: আমি আল্লাহকে বিশ্বাস করি। মা শা আল্লাহ্! দেয়ার মতো কিছুই আমার কাছে নেই। মিসকীনটি বললো: আমি আল্লাহ’র নামে আপনার কাছে চাচ্ছি যেনো আপনি আমায় কিছু দান করেন? কেননা, আমি আপনার চেহারায় মহিমা দেখতে পাচ্ছি এবং আপনার কাছে বরকত আশা করছি। খিজির বললেন: আমি আল্লাহকে বিশ্বাস করি। আমার কাছে দেয়ার মতো কিছু নেই! তবে, তুমি আমায় বিক্রি করে এর দাম নিতে পারো! মিসকীনটি বললো: এটা কি ঠিক হবে? তিনি বললেন: হাঁ; আমি বলছি যে, তুমি আমার কাছে মস্তবড় জিনিস চেয়েছো। সাবধান! আমি আমার প্রভুর খাতিরে তোমায় বঞ্চিত করবো না! নবীজী ফরমান: এরপর সে তাঁকে বাজারে চারশ’ দেরহামে বেচে দিলো! তিনি (হযরত খিজির ’আলাইহিস সালাম) ক্রেতার কাছে বেশ কিছুদিন রইলেন। কিন্তু সে তাঁকে কোনো কাজে লাগালো না! তিনি বললেন: আমাকে দিয়ে উপকৃত হতেই তো আপনি আমায় কিনেছেন। কাজেই, আমায় কোনো কাজের আদেশ দিন। সে বললো: তুমি তো অত্যন্ত বৃদ্ধ ও দুর্বল। তাই, আমি তোমায় কষ্ট দিতে চাই না। তিনি বললেন: আমার কষ্ট হবে না। তখন সে বললো: তাহলে, তুমি দাঁড়াও এবং এ পাথরটি সরিয়ে ফেলো। একদিনে ছ’জনের কম লোকে এটা সরাতে পারে না! (বলেই) লোকটি তার কোনো কাজে বেরিয়ে গেলো।

এদিকে, কিছুক্ষণের মাঝেই তিনি পাথরটি সরিয়ে ফেললেন! (ফিরে এসে) সে বললো: তুমি তো ভালোভাবেই কাজটি করেছো দেখছি! তোমার যে এতো ক্ষমতা আছে – তা তো বুঝিনি! এরপর লোকটির একবার সফরে যাওয়ার দরকার হলো। সে বললো: আমি তোমায় বিশ্বস্ত মনে করি। আমার অনুপস্থিতিতে তুমি আমার পরিবার-পরিজনকে ভালোভাবে দেখাশুনা করবে। তিনি বললেন: আমায় কোনো কাজের আদেশ দিয়ে যান। সে বললো: আমি তোমায় কষ্ট দিতে চাই না। তিনি বললেন: আমার কষ্ট হবে না। তখন লোকটি বললো: আমি তোমার কাছে ফিরে আসার আগে তুমি ইট দিয়ে আমার ঘরটি তৈরী করে রেখো। এ কথা বলে লোকটি সফরে চলে গেলো।

নবীজী (সাঃ) ফরমান: এরপর লোকটি ফিরে এসে দেখলো যে, সত্যিই তার ঘরটি ইট দিয়ে তৈরী হয়ে গেছে! তখন লোকটি বললো: দোহাই আল্লাহ’র! তোমার এমন করার কারণ কী এবং ব্যাপারটি আসলে কী? তিনি বললেন: আপনি আমায় আল্লাহ’র দোহাই দিয়ে জিজ্ঞেস করেছেন। আর আল্লাহ’র দোহাই দেয়া প্রশ্নের উত্তর দেয়াটা আমার জন্যে মস্তবড় ইবাদত বৈকি! এরপর খিজির বললেন: আমি আপনাকে আমার পরিচয় দিচ্ছি। আমি হচ্ছি খিজির। আপনি শুনেছেন যে, এক মিসকীন আমার কাছে ভিক্ষা চেয়েছিলো। অথচ তাকে দেয়ার মতো কোনো কিছুই আমার কাছে ছিলো না। তখন সে আল্লাহ’র দোহাই দিলে, অগত্যা আমাকে তার দাস হতে হলো। এরপর ভিক্ষুকটি আমাকে (আপনার কাছে) বিক্রি করে দিলো। আমি আপনাকে জানাচ্ছি যে, আল্লাহ’র নামে কেউ কিছু চাইলে এবং সামর্থ্য থাকার পরেও তাকে কিছু না দিলে, রোজ হাশরে সে কঙ্কালসার হয়ে হাজির হবে! তার কোনো গোশত থাকবে না এবং সে চেঁচাতে থাকবে! তখন লোকটি বললো: আমি আল্লাহকে বিশ্বাস করি। হে আল্লাহ’র নবী, আমি আপনার জন্যে কুরবান! আমি তো (আপনার পরিচয়) জানতান না! আপনি নিখুঁতভাবে ও দক্ষতার সঙ্গে (আমার প্রতি) ইহসান করেছেন। হে আল্লাহ’র নবী, আমার মা-বাবা আপনার জন্যে কুরবান হোক। আপনি আমার পরিবার-পরিজন ও ধন-সম্পদের ব্যাপারে যা চান – হুকুম করুন কিংবা আপনি চাইলে, আপনাকে মুক্ত করে আপনার পথে ছেড়ে দেবো। তিনি বললেন: আমি মুক্ত হয়ে আমার প্রভুর ইবাদত-বন্দেগী করতেই পছন্দ করি। অতঃপর সে তাঁকে মুক্ত করে তাঁর পথে ছেড়ে দিলো। তখন খিজির বললেন: সকল প্রশংসা আল্লাহ’রই – যিনি আমায় (তাঁর) ইবাদত-বন্দেগী করতে বন্দি করেছিলেন। তারপর তা থেকে আমায় মুক্তি দিলেন।

(সূত্রঃ তাবারানী ও অন্যান্য)

You may also like...

Skip to toolbar