হযরত সালেহ (আঃ) এর ঘটনা

সামুদ জাতির নিকট হযরত সালেহ (আঃ) রাসূল হিসেবে প্রেরিত হয়েছিলেন। সামুদ জাতি অত্যন্ত্ম সমৃদ্ধশালী ছিল, শস্য-শ্যামলিমায় পরিপূর্ণ ছিল তাদের এলাকা। বাগ-বাগিচা, ঝর্ণায় এক নয়নাভিরাম দৃশ্যের অবতারণা করা হয়েছিল তাদের চতুর্দিকে। কিন্ত্মু এ হতভাগা জাতি আলস্নাহ পাকের অবাধ্য অকৃতজ্ঞ ছিল। মূর্তি পূজা ও ডাকাতি- রাহজানিতে লিপ্ত ছিল। তাই হযরত সালেহ (আঃ) তাদেরকে উপদেশ দিয়েছিলেন।
হযরত (আঃ)- কওমের লোকজন যখন তাঁর দাওয়াতের দরম্নন বিরক্ত হয়ে গেল, তখন তাদের নেতৃত্বস্থানীয় কতিপয় ব্যক্তি জনতার সামনে হযরত সালেহ (আঃ) কে বলল যে, সত্যিই যদি তুমি আলস্নাহর প্রেরিত নবী হও, তাহলে এ ব্যাপারে কোনো মুজেযা বা নিদর্শন দেখাও। এতে আমরা তোমার সত্যতায় বিশ্বাস করবো। হযরত সালেহ (আঃ) বললেন, এমন যেন না হয় যে, উক্ত নিদর্শন দর্শনের পরও তোমরা তোমাদের ভ্রান্ত্ম মতবাদ ও ধর্ম বিশ্বাসের উপর অনড় থাকবে। নেতৃবর্গ তখন জোরালো ভাবে বলল, না, আমরা তা দেখার মাত্রই ঈমান আনায়ন করবো। হযরত সালেহ (আঃ) জিজ্ঞাসা করলেন, তোমরা কোন ধরনের নিদর্শন চাও? তারা জবাবে বলল- সামনের পাহাড় বা বসতির এ পাথর থেকে একটি গর্ভবতী উষ্ট্রী বের করে দেখাও, আর উক্ত উষ্ট্রীটি বের হওয়ার পর পরই সবার সামনে বাচ্ছা প্রসব করবে।
হযরত সালেহ (আঃ) আলস্নাহ তা’য়ালার দরবারে দোয়া করলেন। ফলে তখনই উক্ত পাথর থেকে একটি গর্ভবতী উষ্ট্রী বেরিয়ে এলো এবং সাথে সাথে একটি বাচ্ছা প্রসব করলো। এ থেকে তাদের নেতৃবর্গের মধ্য হতে জুনদা ইবনে ওমর তো তখনই ঈমান নিয়ে এলো, আর অন্যান্যরাও যখন তার অনুকরণে ঈমান আনবে এমন সময় তাদের মন্দিরের ঠাকুর ও পুরোহিতরা তাদের কে নানা কথা বলে ঈমান আনা থেকে বিরত রাখল।
হযরত সালেহ (আঃ) কওমের সকলকে বিভিন্ন ভাবে বুঝালেন। তিনি বললেন- দেখ! তোমাদের কামনা মতেই এ উষ্ট্রী প্রেরিত হয়েছে। আলস্নাহ তা’য়ালার এটাই সিদ্ধান্ত্ম যে, এর জন্য পানি পানের পালা নির্দিষ্ট থাকবে। একদিন এই উষ্ট্রী, আরেক দিন অন্য সকল লোকজনের ও তাদের পালিত পশুর জন্য নির্দিষ্ট থাকবে। আর সাবধান! এর যেন কোনোরূপ কষ্ট না হয়। এর যদি কোনোরূপ কষ্ট হয় তাহলে তোমাদের কোনো নিস্ত্মার নেই। বেশ কিছু দিন পর্যন্ত্ম এ ধারা বহাল ছিলো। বহু লোক তার দুধ দ্বারা উপকৃত হতো। তবে ধীরে ধীরে তাদের মধ্যে এ বিষয়টি অসহনীয় হয়ে উঠে। তাদের পরস্পরের মধ্যে পরামর্শ ও ষড়যন্ত্র হতে থাকে যে, এ উষ্ট্রীকে মেরে ফেলতে হবে। যাতে পালাবণ্টন থেকে মুক্তি লাভ হয়। কেননা এটা আমাদের নিজেদের ও আমাদের পশু-পাখিদের জন্য অত্যন্ত্ম দুর্বিসহ ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমরা সবাই এর দরম্নন কষ্টের শিকার হচ্ছি। তবে তাকে হত্যা করার কারো হিম্মত হচ্ছিল না।
পরে সামূদ নামক জনৈক সুন্দরী ধণবতী রমনী নিজেকে ‘মিসদা’ নামক ব্যক্তির সামনে এবং অপর ধণবতী রমনী উনায়যা তার সুন্দরী কন্যাকে কায়দার বা [কুদার] নামক ব্যক্তির সামনে এ কথা বলে পেশ করল যে, তারা যদি উক্ত উষ্ট্রীকে মেরে ফেলতে পারে, তাহলে এরা তাদের মালিকানাধীন হয়ে যাবে। তাদের কে বিবাহ করে আনন্দ উপভোগ করবে। তাদের এই উত্তেজনাকর প্রস্ত্মাবে কায়দার ইবনে সালিফ ও মিসদা উদ্ধুদ্ধ হয়ে এর জন্য প্রস্ত্মুতি নিলো। তারা সিদ্ধান্ত্ম নিল যে, উষ্ট্রীর চলাচল পাথে আত্বগোপন করে বসে থাকবে। উষ্ট্রীটি যখন মাঠের দিকে যাওয়ার জন্য বের হবে, তখন অতর্কিত তার উপর আক্রমণ করবে। এ ব্যাপারে তারা আরো কয়েকজনের সহায়তা কামনা করলো এবং তারা তাতে সম্মত হলো।
মোটকথা উপরিউক্ত সিদ্ধান্ত্ম মাফিক উষ্ট্রীকে হত্যা করে ফেলল। তারা পরস্পরে এও প্রতিজ্ঞা করল যে, রাতে আমরা সবাই একত্র হয়ে সালেহ (আঃ) ও তার পরিবারের সবাইকে হত্যা করব। তাদের অভিবাবকদের কেউ আমাদের কে সন্দেহ বা দোষারোপ করলে আমরা বলব যে, এ কাজ আমরা করিনি। আমরা তো সেখানে হাজিই ছিলাম না। উষ্ট্রীকে হত্যা করার পর তার বাচ্ছাটি পালিয়ে পাহাড়ে উঠে চিৎকার করতে করতে এক পর্যায়ে অদৃশ্য হয়ে গেল। হযরত সালেহ (আঃ)- এ বিষয়ে অবগত হওয়ার পর বললেন, অবশেষে তাই হলো আমি যার আশঙ্কা করছিলাম। এখন তোমরা আলস্নাহর আজাবের অপেÿা কর। তিনদিনের মধ্যে আলস্নাহর আজাব এসে তোমাদের কে অনিবার্য ধ্বংস করে ফেলবে। তাই হল। আর ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য এক শিক্ষনীয় কাহিনী হয়ে রয়ে গেল।

You may also like...

Skip to toolbar