হায়েয ও নেফাস উয়য়টার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য মাসায়েল-মাওলানা মুহাম্মদ হেমায়েত উদ্দিন

(নিম্নের মাসয়ালাগুলো হায়েয ও নেফাস উভয় অবস্থার জন্য প্রযোজ্য)

১। হাযেয, নেফাস অথবা অন্য যেকোনো কারণে যে নারীর ওপর গোসল ওয়াজিব হয়ে পড়েছে তার জন্য মসজিদে যাওয়া হারাম। সে কা’বা শরীফ তওয়াফ করতে পারবে না; কুরআন শরীফ পড়তে পারবে না; স্পর্শ করতে পারবে না। হ্যাঁ, যদি কুরআন শরীফের উপর জুযদান লাগানো থাকে অথবা রুমাল দিয়ে জড়ানো থাকে তাহলে জুযদান অথবা রুমালের উপর দিয়ে স্পর্শ করা জায়েয আছে। অনুরুপভাবে যদি কাগজ বা চামড়ার আস্তর থাকে এবং যদি সেটা কুরআন শরীফের সঙ্গে সেলাই করা না হয় কিংবা আঠা দিয়ে আঁটকানো না থাকে, তাহলে তার উপর দিয়ে স্পর্শ করা জায়েয আছে।

২। যার উযূ নেই সেও কুরআন শরীফ স্পর্শ করতে পারবে না, তবে মুখস্ত পড়তে পারবে।

৩। যে টাকা-পয়সা বা বরতনে বা তাবীজে কুরআনের কোনো আয়াত লেখা আছে উল্লেখিত জনেরা সেই টাকা-পয়সা, তাবীজ এবং বরতনও স্পর্শ করতে পারবে না। হ্যাঁ, কোন থলি বা পাত্রে রাখলে সে থলি বা পাত্র স্পর্শ করতে পারবে এবং থলি বা পাত্রের গায়ে ধরে উঠাতেও পারবে।

৪। গায়ের জামা অথবা ওড়না দিয়েও কুরআন শরীফ স্পর্শ করা এবং উঠানো জায়েয নয়। হ্যাঁ, গা থেকে আলাদা কাপড় দিয়ে ধরতে ও উঠাতে পারবে। যেমনঃ রুমাল দিয়ে ধরে উঠাতে পারবে।

৫। যদি পরিপূর্ন আয়াত তেলাওয়াত না করে বরং কোনো একটি শব্দ অথবা আয়াতের অর্ধেকটা তেলাওয়াত করে তাহলে জায়েয আছে। অবশ্য সেই অর্ধেক আয়াতটুকু ছোট কোন আয়াতের সমান হতে পারবে না।

৬। কোনো মেয়ে হেফজ করা অবস্থায় হায়েয এসে গেলে এবং মুখস্থ করার জন্য তেলাওয়াতের প্রয়োজন দেখা দিলে বা কোনো হাফেজা মেয়ে হায়েয অবস্থায় কুরআন হেফজ রাখার জন্য তেলাওয়াত জারি রাখতে চাইলে মনে মনে তেলাওয়াত করবে, মুখে উচ্চারন করে নয়।

৭। সূরা ফাতেহা অথবা কুরআনে কারীমের অন্য কোনো দুয়ায় আয়াত যেমনঃ আয়াতুল কুরসী যদি তেলাওয়াতের নিয়তে না পড়ে বরং দুআর নিয়তে পড়ে, তাহলে কোনো গোনাহ নেই।

৮। দুআ কুনুত পড়াও জায়েয আছে।

৯। যদি কোনো মহিলা বাচ্চাদেরকে কুরআন শিক্ষা দেন তাহলে তিনি বানান করে পড়তে পারবেন এবং রিডিং পড়ানোর সময় এক দুই শব্দ করে ভেঙ্গে ভেঙ্গে আলাদা শ্বাসে পড়তে পারবেন।

১০। হায়েয, নেফাস অবস্থায় কালিমা, দুরুদ শরীফ, এস্তেগফার, আল্লাহর নাম নেয়া জায়েয। এছাড়া বিভিন্ন ওযীফাও পাঠ করা যায়।

১১। হায়েয নেফাসের অবস্থায় নামাযের সময়ে উযূ করে নামাযের স্থানে নামায আদায় করার পরিমান সময় বসে বসে সুবহানাল্লাহ, লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ পড়তে থাকবে, যেন ইবাদাতের অভ্যাস বজায় থাকে। এটা মোস্তাহাব।

১২। হায়েয অবস্থায় মহিলারা প্রতি নামাযের ওয়াক্তে সত্তর বার এস্তেগফার পাঠ করলে এক হাজার রাকআত নামাযের ছওয়াব পাবে, সত্তরটি গোনাহ মাফ হবে এবং দরজা বুলন্দ হবে।

১৩। গোসল ফরয ছিল, গোসলের পানি ছিল না, যখন পানি পাওয়া গেছে তখন নেফাস শুরু হয়ে গেছে এমতাবস্থায় আর গোসলের প্রয়োজন নেই। স্রাব থেকে পাক হওয়ার পর একবারই গোসল করে নিতে পারবে।

১৪। কোন মহিলার বাচ্চা প্রসব হচ্ছে। কিছু বের হয়েছে এমতাবস্থায় যদি হুঁশ থাকে, বিবেক সুস্থ থাকে, তাহলে নামায পড়া ওয়াজিব। কাযা করতে পারবে না। আর যদি বাচ্চার ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে তাহলে নামায পড়বে না। পরে কাযা পড়বে। অনুরূপভাবে ধাত্রী যদি মনে করে সে নামায পড়তে গেলে সদ্যপ্রসূত শিশুটির ক্ষতি হবে, তাহলে সেও নামায কাযা করতে পারবে। সিজারকারী ডাক্তারও এই মাসআলা অনুযায়ি আমল করবেন।

১৫। হায়েয ও নিফাসের পর সত্বর গোসল করে নামায আরম্ভ করতে হবে। রক্তস্রাব বন্ধ হওয়ার পর যত ওয়াক্তের নামায ছুটবে তার জন্য পাপ হবে।

১৬। হায়েয ও নেফাস অবস্থায় নামায, রোযা ও কুরআন তেলাওয়াত ইত্যাদি নিষিদ্ধ। অবশ্য নামায ও রোযার মধ্যে পার্থক্য এই যে, হায়েয ও নেফাস অবস্থায় যে নামায ছুটে গিয়েছিল সেগুলোর কাযা করতে হবে না, মাফ হয়ে গেল। তবে পবিত্র হওয়ার পর রোযার কাযা আবশ্যক। হায়েয ও নেফাস অবস্থায় যিকর, দুরুদ, দুআ, এস্তেগফার ও কুরআন শরীফে যে দুআ আছে এগুলো পড়া যায়। স্বামী-স্ত্রী একত্রে উঠা-বসা ও খানা-পিনা করতে পারে, তবে যৌন তৃপ্তি মেটাতে পারে না, শরীআতমতে তা হারাম, হেকিমীমতেও এমন করা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।

আল্লাহ আমাদেরকে আমল করার তৌফিক দান করুন।

সূত্রঃ আহকামে যিন্দেগী

You may also like...

Skip to toolbar