১২ রাকাআত সুন্নতে মুয়াক্কাদার কাযা আদায়ের বিধান

সুন্নত কাযা পড়া সুন্নত; জরুরী নয়। কারণবশত: যোহরের পূর্বের সুন্নত পড়তে না পারলে ফরযের (পরের সুন্নতের) পরে তা কাযা করা বিধেয়।

হযরত আয়েশা (রাঃ) বলেন,

‘নবী (সাঃ) যোহরের পূর্বের ৪ রাকআত পড়তে না পারলে (ফরযের) পরে তা পড়ে নিতেন।’ (তিরমিযী, সুনান, তামামুল মিন্নাহ্‌, আলবানী ২৪১পৃঃ।

তদনুরুপ যোহরের পরের সুন্নত পড়তে সময় না পেয়ে যোহরের ওয়াক্ত অতিবাহিত হলেও আসরের পর (নিষিদ্ধ সময় হলেও) তা কাযা পড়া যায়।
উম্মে সালামাহ্‌ (রাঃ) বলেন,

‘একদা আল্লাহর রসূল (সাঃ) যোহরের (ফরয) নামায পড়লেন। ইতি অবসরে কিছু (সাদকার) মাল এসে উপস্থিত হল। তিনি তা ব ন্ট ন করতে বসলেন। এরপর আসরের আযান হয়ে গেল। তিনি আসরের নামায পড়লেন। তারপর আমার ঘরে ফিরে এলেন। সেদিন ছিল আমার (ঘরে তাঁর থাকার পালি)। তিনি এসে ২ রাকআত হাল্কা করে নামায পড়লেন।

আমরা বললাম, ‘এ ২ রাকআত কোন্‌ নামায হে আল্লাহর রসূল? আপনি কি তা পড়তে আদিষ্ট হয়েছেন?’ তিনি বললেন, “না, আসলে এটা হল সেই ২ রাকআত নামায, যা আমি যোহরের পর পড়ে থাকি। কিন্তু আজ এই মাল এসে গেলে তা বন্টন করতে ব্যস্ত হয়ে পড়লে আসরের আযান হয়ে যায়। ফলে ঐ নামায আমার বাদ পড়ে যায়। আর তা ছেড়ে দিতেও আমি অপছন্দ করলাম।”
(আহমাদ, মুসনাদ, বুখারী, মুসলিম, আবূদাঊদ, সুনান)

আর এ কথা বিদিত যে, মহানবী (সাঃ) যে আমল একবার করতেন, তা নিয়মিত করে যেতেন এবং বর্জন করতে পছন্দ করতেন না। যার জন্য মা আয়েশা (রাঃ) বলেন,

‘আল্লাহর রসূল (সাঃ) আসরের পর আমার কাছে ২ রাকআত (তাঁর ইন্তিকাল অবধি) কখনো ত্যাগ করেননি।’ (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত ১১৭৮নং)

উল্লেখ্য যে, ঐ ২ রাকআত নামায মহানবী (সাঃ)-এর অনুকরণে আমরাও পড়তে পারি। অবশ্য আসরের পর নিষিদ্ধ সময় হলেও সূর্য হ্‌লুদবর্ণ হলে তবেই সে সময় নামায নিষিদ্ধ। (আবূদাঊদ, সুনান ১২৭৪নং) তার আগে নয়।

(বিস্তারিত দ্র: সিলসিলাহ সহীহাহ, আলবানী ৬/১০১০-১০১৪)

সংগৃহীত।।

You may also like...

Skip to toolbar