Category: আমরা সেই সে জাতি– আবুল আসাদ

যার কাছে সম্পদ অপেক্ষা সত্য বড়

আবদুল্লাহ মহানবীর (সা) এর একজন সাহাবী। ইসলাম গ্রহণের আগে তাঁর নাম ছিল আবদুল ওজ্জা। পিতৃহীন আবদুল ওজ্জা ছিলো বিশাল বিত্ত-বৈভবের অধিকারী। পিতৃব্যের একমাত্র উত্তরাধিকারী। সুখের সাগেরে লালিত আবদুল ওজ্জার বিয়ে হয় এক ধনী কন্যার...

‘এমন শত্রু তো শত্রু নয়’

নবম হিজরী সনের ঘটনা। এক মহাবিপদ সংবাদ এল মদীনায়। রোম সম্রাট মদীনা আক্রমণ করতে আসছেন। তাঁর সাথে যোগ দিয়েছে লাখম, জোজম, গাচ্ছান প্রভৃতি খৃস্টান আরব গোত্রগুলো। রোম সম্রাট পূর্ণ এক বছরের রণসম্ভার ও রসদাদি...

‘ইয়া রাসূলাল্লাহ, আমরা আপনাকে চাই’

হুনাইন যুদ্ধের ‘মালে গণিমত’ (যুদ্ধলব্ধ ধন-সম্পদ) বণ্টন করলেন মহানবী (সা)। যুদ্ধলব্ধ সব সম্পদই তিনি বণ্টন করলেন ইসলামে নবদীক্ষিত কুরাইশদের মধ্যে। মদীনার আনসাররা কিছুই পেল না। মদীনার মুনাফিকরা একে একটা মহা সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করল।...

‘আনান্নাবী লা কাজেব’

ওহোদ যুদ্ধের মতেই এক বিপর্যয়কর পরিস্থিতি। ছড়ানো-ছিটানো বিশাল রণাঙ্গনের এক স্থানে মহানবী তাঁর শ্বেত অশ্বের উপর বসে। মুসলিম পতাকাগুলো ভূলুণ্ঠিত। মুসলিম বাহিনী সম্পূর্ণ বিশৃংখলা হয়ে পড়েছে। ওহোদ যুদ্ধে বিপর্যয় হয়েছিল মহানবীর যুদ্ধ-সংক্রান্ত একটা আদেশ...

মহানবীর কণ্ঠস্বরে কেঁপে উঠলেন উসামা

মক্কা বিজয়ের পর মহানবী (সা) তখনও মক্কায়। এ সময় কুরাইশ গোগের একজন সম্মানিতা মহিলা চুরির অপরাধে ধরা পড়ল। কুরাইশ বংশের স¤¿ান্ত লোকরা তাকে এই অভিযোগ থেকে বাঁচাবার চেষ্টা করল। কিন্তু তারা যখন দেখল কোনভাবেই...

কত মূল্য মানুষের!

মক্কার আশে-পাশের অনেক বেদুইন গোত্র আগে থেকেই কুরাইশদেও বাড়াবাড়ির  কারণে তাদের উপর বিক্ষুব্ধ ছিল এবং সহানুভূতিশীল হয়ে উঠেছিল মুসলমানদের প্রতি। মুসলমানদের মক্কা বিজয়ের মাধ্যমে কুরাইশদের দর্প চূর্ণ হবার পর এই বেদুইন গোত্রগুলো ইসলামের আরও...

‘ফাতহুম মুবিন’

  মক্কা নগরী মুক্ত হয়েছে। কা’বাঘরকে মূর্তিও ও পূজার হাত থেকে মুক্ত করা হয়েছে। মুসলমনরা মুক্ত আল্লাহর ঘর কা’বায় প্রাণভরে একদিন একরাত তাওয়াফ করেছে। কিন্ত্র নামায তখনও হয়নি, আযান তখনও উত্থিত হয়নি কা’বায় মক্কার...

বিশ্বজয়ী মানবতা

মক্কার আবু জাহ্ল ইসলামের প্রধানতম বৈরী ছিলো। বদর যুদ্ধে সে নিহত না হওয়া পর্যন্ত মহানবী (সা) ও ইসলামের বিরুদ্ধে অবিরাম শত্রুতা করে গেছে। আবু জাহলের পুত্র ইকরামাও তার পিতার মতই ইসলামের বৈরী ছিলো। বিভিন্ন...

একমাত্র আল্লাহ্ই আমাদের প্রানের মালিক

মক্কা বিজয়ের পর মহানবী (সা) মক্কাবাসীর জন্যে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেছিলেন। এরপরও কিছু পাষন্ড প্রকৃতির মানুষ মহানবী (সা)-কে হত্যার ষড়যন্ত্র আটলো। এমনই এক মদ্যপ ও পাষন্ড ছিল ফুজালা ইবনে উসার। অপরাধীদের আড্ডাখানা, মদের দোকান...

মহানবী আবারও অভয় দিলেন

রাহমাতুল্লিল আলামীন মহানবী সা) রক্তপাত চান না। মক্কা প্রবেশেও তিনি রক্তপাত এড়াতে চাইলেন্ এ লক্ষ্যেই তিনি একটা পাহাড়ের শীর্ষে বসে চারদিকে নজর রাখলেন কোথায় কি ঘটে তা দেখার জন্যে। হাঠাৎ মক্কার এক উপত্যকা-পথে সকালের...

মহানবীর চিঠি পড়ে কেঁদে ফেললেন মানজার

আরব উপদ্বীপের পূর্ব উপকূলে পারস্য উপসাগরের পানির উপর দাঁড়ানো বাহরাইন। বাহরাইনের শাসক তখন মানজার ইবনে ছাভী। ইসলামের দাওয়াত নিয়ে মহানবী (সা.)-এর একটা চিঠি তাঁর কাছে পৌঁছল। ইসলামের উত্থান ও এর গতিধারা সম্পর্কে আগে থেকেই...

সেনাপতি সা’আদ পদচ্যুত হলেন

মক্কার উপকণ্ঠে মাররুজ জাহরান পত্যাকায় ফজরের নামায পড়ে দশ হাজার সৈন্যের মুসলিম বাহিনী মক্কা প্রবেশের জন্যে যাত্রা শুরু করলেন। বিভিন্ন সেনাপতির অধীনে দলে দলে বিভক্ত হয়ে মুসলিম বাহিনী মক্কা প্রবেশের জন্যে অগ্রসর হচ্ছে। প্রত্যেক...

‘ফাতহুম মুবিনে’র প্রথম বন্দী

‘ফাতহুম মুবিন’ বা মক্কা বিজয়ের মহামুহূর্হটি সমাগত। দশ হাজার মুসলিম সৈন্যে বাহিনী সেদিন গভীর রাতে মক্কার উপকণ্ঠ মাররুজ-জাহরান উপত্যকায় গিয়ে পৌঁছল এবং সেখানেই রাত যাপনের সিদ্ধান্ত নিলো। মক্কার কুরাইশ নেতা আবু সুফিয়ান ও আরও...

স্বজনের চেয়ে ওয়াদা বড়

হুদায়বিয়া সন্ধির পর দেশের ভেতরে-বাইরে ইসলামের দ্রুত বিস্তারে দিশেহারা হয়ে পড়ল কুরাইশ এবং আরবের প্রধান পৌত্তলিক গোত্রগুলো। মক্কায় কুরাইশ, তায়েফের সাকিফ এবং হোনায়েনের হাওয়াজেন ছিল আরবের প্রধান পৌত্তলিক গোত্র। তারা একযোগে চেষ্টা করে সমগ্র...

যুদ্ধে ৮টি তরবারী ভাঙে সেনাপতির

মুতার যুদ্ধ নিয়ে উদ্বিগ্ন মহানবী (সা)। মুতার সৈন্যদল পাঠাবার কয়েকদিন পর যুদ্ধের সংবাদ সংগ্রহের জন্যে আবু আমের আশআরী নামক একজন সাহাবীকে তিনি পাঠালেন মুতা অঞ্চলে। তিন সেনাপতি শহীদ হওয়ার মর্মান্তিক খবর পেয়ে আবু আমের...

খালিদ হলেন সেনাপতি

মুতার যুদ্ধ চলছে। এক লাখ সুসজ্জিত সৈন্যের বিরুদ্ধে তিন হাজার সৈন্যের লড়াই। সেনাপতি যায়েদ ইবনে হারেসার শাহাদাতের পর সেনাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করলেন জাফর ইবনে আবু তালিব। ভয়াবহ যুদ্ধের তীব্রতার মধ্যে সেনাপতি জাফর শীদ হলেন।...

সিরিয়ার আকাশে প্রথম ‘আল্লাহু আকবার’ ধ্বনি

মুতা যুদ্ধ-যাত্রার একটি মুহূর্ত। তিন হাজার সৈন্যেও মুসলিম বাহিনী আরব সীমান্ত অতিক্রম করে সিরিয়া প্রদেশে প্রবেশের পর জানতে পারলো, খৃস্টান শাসনকর্তা শুরাহবিল এক লাখ সৈন্যের এক সুসজ্জিত বাহিনী নিয়ে সিরিয়ার মা’আব স্থানে অপেক্ষা করছেন।...

প্রথম দিগি¦জয়ী বাহিনীর প্রতি মহানবী

বাসরায় রাজার কাছে ইসলামের দাওয়াত নিয়ে দূত উমাইর ইবনে হারেসকে প্রেরণ করেন মহানবী (সা)। পথে ‘মুতা’ নামক স্থানে একজন খৃস্টান আঞ্চলিক শাসনকর্তা শুরাহবিল উমাইরকে বন্দী করে তাকে হাত-পা কেটে অশেষ কষ্ট দিয়ে হত্যা করল।...

নববী এক মোজেজা

রোমান সম্রাট হিরাক্লিয়াস, আবিসিনিয়ার সম্রাট নাজ্জাসীর কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছানোর পর পারস্যের সম্রাট খসরু পারভেজের দরবারে চিঠি দিয়ে দূত প্রেরণ করলেন মহানবী (সা)। মহানবীর চিঠি কোন সম্রাটের দরবারে যে অমর্যাদার শিকার হয়নি, সেটাই ঘটল...

মদীনার পথে ত্রি-রত্ন

আমর ইবনে ‘আস ছুটছেন মরু পথ ধরে মদীনার দিকে। আমর মক্কার একজন প্রথিতযমা যোদ্ধা এবং দূরদর্শী একজন রাজনীতিবিশারদ পণ্ডিত। আবিসিনিয়ার সম্রাট নাজ্জাসীর দরবার থেকে হিজরতকারী মুসলমানদের ধরে আনার কঠিন কূটনৈতিক কর্মে কুরাইশরা তাকেই পাঠিয়েছিল...

বিষের পরাজয় বিশ্বাসের জয়

খায়বর যুদ্ধ তখন শেষ। এহানবী (সা) তখনও খায়বরে। ভেতরে ভেতরে ইহুদীরা পাগল হয়ে গেছে কিছু করার জন্যে। ইহুদীদের একটা গ্রুপ সিদ্ধান্ত নিল মহানবী (সা)-কে হত্যা করার। ঠিক হলো বিষ খাওয়ানোই সবচেয়ে নিরাপদ। পরিকল্পনা অনুসারে...

সীমাহীন বৈরিতার সীমিত শাস্তি

মদীনায় হিজরতের পর মুসলমানদের বিরুদ্ধে ইহুদীরা বার বার বিশ্বাসঘাতকতা করছে। নানরকম ষড়যন্ত্র তারা অবিরাম করে গেছে। খন্দক যুদ্ধের আয়োজন প্রকৃতপক্ষে তারাই করেছিল। আরবের দশ হাজার সৈন্য তার ডেকে এনেছিল মুসলমানদের ধ্বংসের জন্যেই। সে আয়োজন...

Skip to toolbar