Menu

বিপদের বেষ্টনিতে বিশ্বাসের সঞ্জীবনী

খন্দক যুদ্ধের মুহূর্ত। মক্কার কুরাইশদের নেতৃত্বে দশ হাজার মুশরিক সৈন্য মদীনার প্রায় উপকণ্ঠে এসে পৌঁছেছে। একদিকে বাইরে এই বিপদ, অন্যদিকে রয়েছে মদীনার ষড়যন্ত্রকারী ইহুদী এবং মুনাফিকদের ভেতর থেকে অভ্যুত্থানের আশংকা। বাইরের আক্রমণকে বাধা দেয়ার জন্য পরিখা খনন করা হয়েছে। ভেতরের ইহুদী মুনাফিকদের অভ্যুত্থান রোধের জন্যে মহানবী (সা) ছালমা ইবনে আছলাম ও যায়েদ ইবনে হারেসার নেতৃত্বে […]

READ MORE

তিমির অন্ধকারে সূর্যোদয়ের কোরাস

কুরাইশদের নেতৃত্বে ইহুদি এবং গোটা পৌত্তলিক আরব একজোট হয়ে আসছে মদীনা আক্রমণের জন্যে।   মহানবী (সা) সকলের সাথে পরামর্শ করে ঠিক করালেন, এবার মদীনায় অবস্থান করেই মদীনার প্রতিরক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে। পারস্যের সাহাবী সালমান ফারসির পরামর্শে পরিখা খনন করে মদীনার উপকণ্ঠে শত্রু বাহিনীর গতিরোধ করার সিদ্ধান্ত হলো। শুরু হলো পরিখা খনন। মহানবী (সা) তাঁর ৩০০০ […]

READ MORE

বে-নজীর অগ্নি-পরীক্ষা

ওহোদ যুদ্ধের দিবাগত রাত। রাত তখন গভীর। বনি খোজায়া গোত্রের প্রধান মা’বাদ এলেন মদীানায়। বনি খোজায়া মুসলমানদের মিত্র গোত্র। ওহোদ যুদ্ধে মুসলমানদের অসুবিধার খবর পেয়ে মুসলমানদের সমবেদনা জানাবার জন্যে রাতেই মা’বাদ মদীনা যাত্রা করেছিলেন। আসার পথে হামরাউল আসাদ স্থানে এসে দেখলেন, মক্কার আবু সুফিয়ানের বাহিনী মক্কার পথ থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে আবার মদীনা আক্রমণের জন্যে অগ্রসর […]

READ MORE

সহস্র জীবন দিয়েও চাই যে মরণ

ওহোদ যুদ্ধ। মুসলমানদের জয় বিপর্যয়ে পরিণত হবার পরের মুহূর্ত। মহানবী (সা) তখন যুদ্ধেও কেন্দ্র হয়ে দাঁড়িয়েছেন। পেছন থেকে শত্রুর আকস্মিক আক্রমণে বিজয়-আনন্দরত মুসলিম সৈন্যরা একত্রিত হয়ে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরেধে এগিয়ে আসতে পারল না। বিশৃঙ্খল হয়ে পড়েছে তারা। মুষ্টিমেয় মুসলিম সৈন্যেও ছোট্ট একটি দল মহানবী (সা)-কে কেন্দ্র করে দাঁড়িয়ে। মক্কার মুশরিক সৈন্যরা একে মহা সুযোগ হিসেবে গ্রহণ […]

READ MORE

দেহ যাদের ঢাল হল

ওহোদ যুদ্ধের মর্মন্তুদ ও মহোত্তম দৃশ্য। যুদ্ধে বিপর্যয় ঘটেছে। বিপর্যয়ের মধ্যে বিপর্যয়। খবর রটল যে, মহানবী (সা) নিহত হয়েছেন। মুসলিম বাহিনীর পতাকাধারী মুছআব নিহত হওয়ার থেকেই এই খবর রটে। রাসূলুল্লাহর (সা) চেহারার সাথে তাঁর চেহারার বাহ্যিক কিছুটা সাদৃশ্য দর্শনে মক্কার মুশরিক ইবনে কামিয়া এই খবর রটিয়ে দেয়।   মুহূর্তেই খবরটি যুদ্ধক্ষেত্রে আগুনের মত ছড়িয়ে পড়ল। […]

READ MORE

ওহোদ গিরিপথের দৃষ্টান্ত

ওহোদ যুদ্ধের এক মহা সন্ধিক্ষণ। মুসলিম বাহিনীর জয় বিপর্যয়ে পরিণত হয়েছে। মুসলিম বাহিনীর পেছনে ওহোদ পাহাড়ের এক গলিপথে মহানবী (সা) ৫০ জনের একটি ক্ষুদ্র দলকে পাহারায় রেখেছিলেন। তাদের উপর নির্দেশ ছিল, তাদের শরীরের গোস্ত পাখিরা ঠুকরে যদিও খায় এবং রণাঙ্গনের মুসলিম সৈন্য সবাই যদি মরেও যায় তবু তারা যেন নির্দেশ না পাওয়া পর্যন্ত গলিপথ ত্যাগ […]

READ MORE

যে নিরাপত্তার চেয়ে মৃত্যু শ্রেয়

বদর যুদ্ধের পরের ঘটনা। মক্কায় কুরাইশরা বদর যুদ্ধে পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতে পাগল হয়েছে তখন। রাত-দিন তারা ব্যস্ত শলাপরামর্শ আর আয়োজনের তৎপরতায়। মহানবী (সা) কুরাইশদের যুদ্ধ প্রস্তুতির খোঁজ-খবর নেবার জন্যে একটা অনুসন্ধানী দল প্রেরণ করলেন। দশজনের সে দলটির নেতৃত্ব দিলেন আসেম ইবনে সাবিত। অনুসন্ধানী এ দলটি মক্কা ও উসফানের মধ্যবর্তী হাদয়াহ পর্যন্ত পৌঁছলে তা টের পেয়ে […]

READ MORE

সোনার টুকরোরা

ওহোদ যুদ্ধের প্রাক্কাল। এহানবীর মদীনা ধ্বংসের জন্যে কালবৈশাখীর মত ধেয়ে আসা কুরাইশ বাহিনী মদীনার উপকণ্ঠে উপস্থিত। এহানবীর নেতৃত্বে মুসলমানরা যুদ্ধযাত্রা করেছে। ক্ষুদ্র মুসলিম বাহিনী। কুরাইশদের তিন হাজারের মুকাবিলায় মাত্র সাতশ’ জন। ছোট কিশোরদের বাহিনীতে নেয়া হয়নি। কিন্তু কয়েকজন নাছোড়বান্দ। তবু তাদের অনুরোধ ফিরিয়ে দিলেন মহানবী (সা)। তাদের একজন রাফে নিজেকে বড় করে তোলার জন্যে পায়ের […]

READ MORE

জান্নাতের সুগন্ধ

আনাস ইবনে নযর বদর যুদ্ধে যোগ দিতে পারেননি। মুসলমানদের প্রথম অগ্নি-পরীক্ষায় শরীফ হতে না পারায় ভীষণ দুঃখ তাঁর। দুঃখ-ভারাক্রান্ত হৃদয়ে তিনি একদিন মহানবী (সা)-কে বললেন, আল্লাহ যদি মুশরিকদের বিরুদ্ধে কোন সুযোগ আমাকে দেন, তাহলে দেখবেন কিভাবে যুদ্ধ করি। সুযোগ এলো আনাস ইবনে নযরের জীবনে। ওহোদ যুদ্ধের দিন। প্রচণ্ডযুদ্ধ। এক মহাসন্ধিক্ষণে মুসলমানরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়ল। ওদের […]

READ MORE

ইবনে জাহাশের কাফেলা

মহানবীর (সা) শিশু রাষ্ট্র মদীনা তখন উত্তাল সাগর ঘেরা এক দ্বীপের মত। মক্কা থেকে হিজরত করার পর তখন এক বছর গত হয়েছে। ক’দিন আগে মক্কা থেকে প্রেরিত কাফেলা কুরাইশদের একটা বাহিনী কুর্জ ইবনে জাবেরের নেতৃত্বে গোপনে এসে অতর্কিতে মদীনার এক প্রান্তরে চড়াও হয়ে মুসলমানদের একটা পশুপাল ধরে নিয়ে গেল। এমন ধরনের আরও আক্রমণের আশংকা মদীনার […]

READ MORE

বাদশাহ ইবনে সউদের বিচার

বহু বছরের অশান্তি, অবিচার, বিশৃঙ্খলা, হানাহানির পর বাদশাহ ইবনে সউদ আরব ভূখণ্ডে শান্তি, শৃঙ্খলা ও সুবিচার প্রতিষ্ঠা করলেন। স্বস্তি ও নিরাপত্তা ফিরে এসেছিল মানুষের মধ্যে। বাদশাহ ইবনে সউদের বিচার কিংবদন্তির মত আলোচিত হয় মানুষের মুখে মুখে। এক দিনে ঘটনা। ইবনে সউদ তাঁর দরবারে বসেছিলেন। স্থানীয় শেখ ও গোত্র সর্দারেরা তাঁর চারদিকে ঘিরে বসেছিল। এ সময় […]

READ MORE

শেষ রক্তবিন্দুর লড়াই

১৭৯৯ সালের ৪ঠা মে। ইংরেজ, নিজাম ও মারাঠার মিলিত বাহিনী শ্রীরঙ্গপত্তমে বীর টিপুর উপর ঝাঁপিয়ে পড়েছে। টিপু ও টিপু সুলতানের ছোট্ট বাহিনী নির্ভীকভাবে তাদের মুকাবিলা করলো। নিহত হলো অনেক শত্রু সৈন্য। কিন্তু শত্রুর বিশাল বাহিনীর প্রবল বাহিনীর প্রবল চাপে ভেঙে পড়ল দুর্গের সিংহদ্বার। ক্ষুদ্র বাহিনী সাথে নিয়ে টিপু সুলতান দুর্গদ্বার রক্ষার জন্যে শত্রুর উপর ঝাঁপিয়ে […]

READ MORE

জাভার রাজপুত্র হাজী পুরওয়া

জাভার পশ্চিম প্রান্তে পাজাজারান নামে একটি রাজ্য। দ্বাদশ শতকের শেষ দিকে সেখানে এক রাজা ছিলেন। রাজার ছিল দুই ছেলে। বড় ছেলে ব্যবসায়ে আত্মনিয়োগ করেছিলেন। এবং ব্যবসায় উপলক্ষে তিনি ভারতে যান। এই সময় রাজার মৃত্যু হলে ছোট ছেলে সিংহাসনে আরোহণ করেন। রাজার বড় ছেলে তাঁর বানিজ্য সফরে এক পর্যায়ে কিছু আরব বণিকের দেখা পান এবং তাদের […]

READ MORE

মুজাদ্দিদের মাথা মানুষ-সম্রাটের কাছে নত হলোনা

মোগল আমল। সম্রাট আকবরের ছেলে জাহাঙ্গীর তখন মোগল সাম্রাজ্যের প্রতাপশালী সম্রাট। একদা তিনি শায়খ আহমদ সরহিন্দীকে দরবারে ডেকে পাঠালেন। জাহাঙ্গীরের দরবারে এ রেওয়াজ ছিল যে, কোন ব্যক্তি দরবারে আগমন করলে প্রথমে বাদশাহকে কুর্নিশ করতে হতো। বাদশাহ আশা করেছিলেন শায়খ আহমদ তাই করবেন। কিন্তু তিনি দরবারে প্রবেশ করে ইসলামী বিধান অনুযায়ী সালাম করলেন। বাদশাহ রাগান্বিত হয়ে […]

READ MORE

বাবরের আমানতদারী

ভারতে মোগল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা বাবর। মধ্য এশিয়ার ফারগানা রাজ্যের শাসন কর্তার তিনি ছেলে। পরে তিনি ফারগানার শাসনকর্তা হন। বহু উত্থান-পতনে ভরা ছিল তাঁর জীবন। সবকিছু ছাপিয়ে তাঁর চরিত্র ছিল হিরকের মত উজ্জ্বল। তাঁর সততা, মানবিকতা ছিল কিংবদন্তির মত মানুষের মুখে মুখে। বাবর যখন ফারগানার শাসনকর্তা, তখন একটি বানিজ্য কাফিলার মালিক ইন্দিজান পাহাড় এলাকায় বজ্রপাতে মারা […]

READ MORE

আল বিরুনীর জ্ঞান পিপাসা

জ্ঞানানুসন্ধিৎসু আল বিরুনীর মৃত্যুকালীন অবস্থা সম্পর্কে ফকিহ আবুল হাসান বলেনঃ যখন আমি তাঁর শয্যাপাশে গেলাম, তখন দেখলাম তিনি শ্বাসকষ্টে ভুগছেন। তিনি আমাকে দেখে বললেন,  “একদিন আপনি আমাকে নানীর সম্পত্তির অংশ ভাগ সম্পর্কে বলেছিলেন। আপনি কি অনুগ্রহ করে সে কথা বলবেন যাতে আমি তা স্মরণ করতে পারি।” আমি বললাম, ‘আপনার আই অবস্থায় সেই আলোচনা আমি কিভাবে […]

READ MORE

বসন্তের যিনি স্রষ্টা তার সৌন্দর্যের দিকে তাকিয়ে দেখ

আল্লাহর ধ্যানে সর্বদা মশগুল থাকতেন তাপসী রাবেয়া বসরী। সকল সৃষ্টির স্রষ্টা, সব সৌন্দর্যের উৎস পরম প্রভু আল্লাহই ছিল তাঁর ধ্যান-জ্ঞান। বসরায় সেদিন বসন্তের সকাল। বসরায় বিখ্যাত গোলাপ বাগান গুলো ফুল সম্ভারে পূর্ণ। বাতাস সে ফুলের গন্ধ ছড়িয়ে চারদিক মোহিত করছিল। পাখি গান গাইছিল। বুলবুলি গুলো যেন ফিসফিস করে গোলাপের প্রতি তাদের ভালবাসা প্রকাশ করছিল। চারদিকটা […]

READ MORE

সাক্ষী হওয়ার যোগ্যতা

কাজী আবু জাফর বিন আব্দুল ওয়াহিদ হাশমী বর্ণনা করেছেনঃ একদিন কাজী আবু উমার রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলেন। পথে মদের পাত্র ভেঙে প্রচুর মদ ছড়িয়ে থাকার দৃশ্য তাঁর চোখে পড়ল। একজন প্রত্যক্ষদর্শী যিনি কাজীর সাথে হাঁটছিলেন তিনি বললেন, ‘এভাবে মদ ছড়িয়ে উৎকট গন্ধ ছড়ায়।’ কাজী শুনলেন কিছুই বললেন না। কিন্তু একদিন ঐ লোক সাক্ষী হয়ে তাঁর আদালতে […]

READ MORE

অভিযোগের ব্যান্ডেজ আছে, কৃতজ্ঞতার ব্যান্ডেজ নেই

আল্লাহর, আল্লাহর জন্যে সব যারা বিলিয়ে দেন, বিলিয়ে দেন নিজের সুখ-সম্ভগ-সব, হযরত রাবেয়া বসরী এমনি একজন মহিলা। মানুষ আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের অফুরন্ত নিয়ামত ভোগ করে, খুব কমই তার জন্যে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে। অথচ সামান্য দুঃখ-কষ্টে তাদের হা-হুতাশের অন্ত থাকে না। এই কথাটাই তাপসী রাবেয়া বসরী কত সুন্দর ভাবে বললেন। একদা মাথায় ব্যান্ডেজ বাঁধা একজন লোক […]

READ MORE

অভাববোধ করলে আল্লাহকেই বলব

তাপসী রাবেয়া বসরী ছিলেন পরিপূর্ণ সন্তুষ্ট হৃদয়। তাঁর এ সন্তুষ্ট হৃদয়ে কোন অভাব বোধ ছিল না, তাই ছিলনা কোন অভিযোগও। চাইবারও ছিলেনা কারও কাছে কিছু তাঁর। হযরত রাবেয়াকে অনেক সময়ই ছিন্ন বসনে দেখা যেত। একদিন বসরার একজন অভিজাত লোকের এটা হৃদয় স্পর্শ করল। সে বলল, ‘মা, যদি আপনি অনুমতি দেন, তাহলে অনেকেই আছে যারা আপনার […]

READ MORE

এক রাজা, এক রাজ্যের ইসলাম গ্রহণ

১৫০১ খ্রিস্টাব্দ। শেখ আবদুল্লাহ নামে একজন আরব ধর্ম প্রচারক মালয় উপদ্বীপের সর্ব উত্তর কুয়েদায় আসলেন। শেখ কুয়েদার রাজার সাথে দেখা করতে চাইলেন। সাক্ষাতের ব্যবস্থা হলো। তারপর দুজনের মধ্যে নিম্নোক্ত কথোপকথন হলোঃ আবদুল্লাহঃ আপনার দেশের ধর্ম কি? রাজাঃ পূর্ব পুরুষের কাছ থেকে যা আমরা পেয়েছি সেটাই আমাদের ধর্ম। আপনার ধর্ম কি? আবদুল্লাহঃ আমাদের ধর্ম স্বয়ং আল্লাহর […]

READ MORE

সুলতান বাহমানীর উচিত শিক্ষা

দক্ষিণ ভারতের বাহমানী রাজ্যের সুলতান আলাউদ্দিন শাহ বাহমানী (দ্বিতীয়) একজন বাগ্মী লোক ছিলেন। মাঝে মাঝে তিনি মসজিদে খুতবা দিতেন এবং বলতেন তিনি সংযমী, ন্যায়পরায়ণ, উদার ও দয়ালু রাষ্ট্রনায়ক। একজন আরবীয় বণিক শাহ বাহমানীর কাছে একটি ঘোড়া বিক্রয় করেছিলেন, কিন্তু দাম তখনও পাননি। শাহ বাহমানী খুতবা দেয়ার সময় একদিন তিনি মসজিদে হাযির এবং রাজা যে নিজের […]

READ MORE
Skip to toolbar